শুটকি প্রেমীদের কাছে লইট্টা শুটকি ভুনা এক অমলিন ভালোবাসার নাম। গরম ভাতের সাথে ঝাল ঝাল লইট্টা শুটকি ভুনা থাকলে থালায় আর কিছুই লাগে না। কিন্তু অনেকেই সঠিক পদ্ধতিতে শুটকি পরিষ্কার ও প্রসেস না করার কারণে এর আসল স্বাদ পান না কিংবা শুটকির দুর্গন্ধের জন্য রান্না করতে চান না।
Mum Hira's Kitchen-এর সেরা লইট্টা শুটকি ভুনা রেসিপির ওপর ভিত্তি করে আজ আমরা শেয়ার করছি শুটকি কাটা, বালু ও বিষমুক্ত করে পরিষ্কার করা এবং একদম হোটেল শৈলীতে চটপটা লইট্টা শুটকি ভুনা করার শতভাগ নিখুঁত পদ্ধতি।
লইট্টা শুটকি কাটার সঠিক নিয়ম
মাথা ও লেজ বাদ দেওয়া: লইট্টা শুটকির মাথা এবং লেজের অংশগুলো বটি বা কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলে দিন।
সাইজ অনুযায়ী টুকরো: শুটকিগুলো আপনার পছন্দমতো ১ থেকে ১.৫ ইঞ্চি সাইজের ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
বালু ও দুর্গন্ধ মুক্ত করার বিশেষ ধোয়া পদ্ধতি
শুটকিতে থাকা আঁশটে গন্ধ, গুঁড়ো বালু ও ময়লা সম্পূর্ণ দূর করতে এই ধাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুকনো টেলে নেওয়া: প্রথমে একটি শুকনো প্যানে বা কড়াইতে কাঁচা শুটকির টুকরোগুলো দিয়ে মাঝারি থেকে কম আঁচে ১-২ মিনিট শুকনো টেলে নিন। এতে করে গায়ে লেগে থাকা বাইরের শুকনো বালু ও ময়লা ঝরে পড়বে।
পানিতে ভিজিয়ে রাখা: প্যান গরম থাকা অবস্থাতেই ভেতরে সাধারণ পানি ঢেলে দিন এবং ১০ মিনিটের জন্য ভিজিয়ে রাখুন। এতে শুটকি নরম হবে।
প্লাস্টিকের নেটে ঘষে ধোয়া: ভিজিয়ে রাখা শুটকিগুলো তুলে নিয়ে একটি প্লাস্টিকের জালি বা নেটের ওপর রেখে আলতো হাতে ঘষে নিন। এতে ওপরের পাতলা আঁশ ও জমে থাকা ময়লা খুব সহজেই উঠে যাবে।
বারবার পানি বদলে ধোয়া: এরপর পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে ৩ থেকে ৪ বার ভালো করে ধুয়ে একটি ছাঁকনিতে জল ঝরাতে দিন।
লইট্টা শুটকি ভুনার প্রয়োজনীয় উপকরণ
স্বাদ ও ঘ্রাণ নিখুঁত রাখতে উপকরণগুলোর সঠিক পরিমাপ নিচে দেওয়া হলো:
লইট্টা শুটকি (পরিষ্কার করা): ১ কাপ
পেঁয়াজ কুচি: ২ কাপ (শুটকি ভুনায় পেঁয়াজ একটু বেশি দিতে হয়)
রসুন কোঁয়া: ১/৪ কাপ
রসুন বাটা: ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়ো: ১.৫ চা চামচ (ঝাল অনুযায়ী সমন্বয় করতে পারেন)
হলুদ গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়ো: ১/২ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো: ১/৪ চা চামচ
কাঁচা মরিচ: ৭-৮ টি (আস্ত বা ফালি করা)
স্বাদমতো লবণ: পরিমাণমতো
খাঁটি সরিষার তেল: ১/৩ কাপ
ধাপ অনুযায়ী প্রস্তুত প্রণালী
ধাপ ১: মসলার পেস্ট তৈরি
একটি ছোট বাটিতে মরিচ গুঁড়ো, হলুদ গুঁড়ো, ধনিয়া গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো এবং প্রয়োজনমতো লবণ একসাথে নিয়ে সামান্য পানি দিয়ে মেখে ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এতে মসলা পুড়ে যাবে না এবং ভুনার রঙ চমৎকার আসবে।
ধাপ ২: শুটকি হালকা ভাজা
কড়াইতে কিছুটা সরিষার তেল গরম করে সামান্য হলুদ ও লবণ ছিটিয়ে দিন। এরপর ধুয়ে রাখা শুটকি দিয়ে ২-৩ মিনিট হালকা লালচে করে ভেজে একটি পাত্রে তুলে রাখুন। (আগে ভেজে নিলে রান্নার সময় শুটকি ভেঙে একবারে গলে যায় না)।
ধাপ ৩: পেঁয়াজ ও মসলা কষানো
শুটকি ভাজার বাকি তেলে অতিরিক্ত সরিষার তেল যোগ করে গরম করুন।
তেলে ২ কাপ পেঁয়াজ কুচি ও ১/৪ কাপ আস্ত রসুনের কোঁয়া দিয়ে দিন। পেঁয়াজ কিছুটা নরম ও হালকা বাদামী হওয়া পর্যন্ত ভাজুন।
এরপর ১ চা চামচ রসুন বাটা দিয়ে দিন এবং কাঁচা গন্ধ যাওয়া পর্যন্ত সাঁতলাতে থাকুন।
এবার বাটিতে আগে থেকে বানিয়ে রাখা মসলার পেস্টটি কড়াইতে দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন, যতক্ষণ না মসলা থেকে তেল আলাদা হয়ে আসছে।
ধাপ ৪: শুটকি ভুনা করা
মসলা ভালোভাবে কষে এলে আগে থেকে ভেজে রাখা লইট্টা শুটকি কড়াইতে ঢেলে দিন।
মসলার সাথে শুটকি মাছ ২ মিনিট কষিয়ে নেওয়ার পর ১ কাপ গরম পানি দিন।
ঢাকনা দিয়ে মাঝারি-কম আঁচে ৫-৭ মিনিট রান্না হতে দিন।
ধাপ ৫: ফাইনাল টাচ ও পরিবেশন
ঝোল মাখা মাখা হয়ে এলে ওপর থেকে আস্ত বা ফালি করা কাঁচা মরিচ ছড়িয়ে দিন।
চুলার আঁচ একদম কমিয়ে রেখে ঢাকনা বন্ধ করে দিন আরও ২-৩ মিনিট, যাতে তেল একদম ওপরে ভেসে ওঠে।
তেল ভেসে উঠলে ও গাঢ় লালচে রঙ ধারণ করলে চুলা বন্ধ করে নামিয়ে নিন।
গরম গরম ধোঁয়া ওঠা ভাতের সাথে নিখুঁতভাবে তৈরি এই লইট্টা শুটকি ভুনা পরিবেশন করুন।
প্রো টিপস (Pro Tips): ૧. কেমিক্যাল ও কীটনাশক মুক্ত প্রাকৃতিক রোদ-শুকানো শুটকি ব্যবহার করলে ভুনার আসল স্বাদ পাওয়া যায়। ২. শুটকি রান্নায় সবসময় খাঁটি সরিষার তেল এবং প্রচুর পেঁয়াজ-রসুনের ব্যবহার শুটকির উগ্র গন্ধ দূর করে চমৎকার স্বাদ আনে।